ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক - ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কত প্রকার

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক সম্বন্ধে অনেকেই বিস্তারিত কিছুই জানিনা। আপনি যদি ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক ও ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কত প্রকার জানতে চান তাহলে আমাদের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আর্টিকেলটিতে ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি।

আমরা যারা ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি তারা সবাই প্রায় ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক এর নাম শুনেছি। উক্ত আর্টিকেলে আমি ক্লাইন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছি অত্যন্ত সহজ ভাবে।আশাকরি আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে।

পোস্ট সূচিপত্র : ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক - ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কত প্রকার

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক 

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক হচ্ছে এমন একটি নেটওয়ার্ক। যেখানে ডেটা সংরক্ষণের জন্য এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য একটি শক্তিশালী কম্পিউটার থাকে এবং অন্য সব ক্লায়েন্ট কম্পিউটার এই সার্ভারের সাথে যুক্ত থাকে। এই নেটওয়ার্কে একটি কম্পিউটারে তথ্য উপাত্ত থাকে। আর নেটওয়ার্কের পণ্য কম্পিউটার সেই সব তথ্য বা উপাত্ত ব্যবহার করে থাকে। যে কম্পিউটারটি এই তথ্য বা উপাত্ত শেয়ার করে সেটা হচ্ছে সার্ভার। 

আরো পড়ুন কম্পিউটারে কাজ করার ১৫ টি পদ্ধতি - কম্পিউটারের প্রধান কাজ কি

আর যেসব কম্পিউটার সেসব তথ্য বা উপাত্ত শেয়ার করে তারা হচ্ছে ক্লায়েন্ট। বলতে গেলে নেটওয়ার্কের যাবতীয় তথ্য সার্ভারে জমাত থাকায় কেন্দ্র থেকে যায়। সব ইউজার এই সার্ভারের লগইন করে নেয় এবং সার্ভার এর সিকিউরিটি নিয়মকানুন মেনে চলে বলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এই ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কে সার্ভার বেশড নেটওয়ার্কও বলা হয়ে থাকে।

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কত প্রকার 

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক - ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কত প্রকার এ আর্টিকেলটিতে আমরা এবারে জানবো ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কত প্রকার। নেট অর্থ জাল। সাধারণভাবে নেটওয়ার্ক বলতে জালের মত কোন কিছু বিস্তার করা কেই বোঝায়। সাধারণত একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা কে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে। 

বর্তমানে অনেক ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক রয়েছে। আমরা সাধারণত ১১ টাইপের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক দেখতে পাই। কার্যাবলীর বৈশিষ্ট্য , কার্যক্ষেত্রে পরিধি , সুইচিং কৌশল , নির্মাণ কৌশল এর উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন

  • ব্যক্তিগত এরিয়া নেটওয়ার্ক
  • লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক
  • ওয়ারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক
  • ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক
  • ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক
  • মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্স্টো
  • রেজঃ এরিয়া নেটওয়ার্ক
  • সিস্টেম এরিয়া নেটওয়ার্ক
  • প্যাসিভ অপটিক্যাল লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক
  • এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট নেটওয়ার্ক
  • ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক

আবার কাজ বা চাহিদা অনুযায়ী নেটওয়ার্কের ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন মালিকানার ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক আবার দুই প্রকারের। যথা

  • প্রাইভেট নেটওয়ার্ক 
  • পাবলিক নেটওয়ার্ক

কার্যাবলীর বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নেটওয়ার্কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন

  • পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক
  • ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক

টপোলজির ওপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ক কে আবার চার ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন

  • স্টার টপোলজি 
  • বাস টপোলজি 
  • রিং টপোলজি 
  • মেশ টপোলজি

কার্যক্ষেত্রে পরিধির উপর নির্ভর করে নেটওয়ার্ক আবার তিন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন

  • লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক
  • মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক
  • ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক

নির্মাণ কৌশল এর উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ক দুই রকমের। যেমন

  • Point-to-point নেটওয়ার্ক
  • মাল্টি পয়েন্ট নেটওয়ার্ক

সুইচিং এর ওপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ক আবার তিন প্রকারের । যেমন

  • সার্কিট সুইচ নেটওয়ার্ক
  • প্যাকেট সুইচ নেটওয়ার্ক

ক্লায়েন্ট সার্ভার ম্যানেজমেন্ট 

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক - ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কত প্রকার এই আর্টিকেলটিতে এবারে আমরা জানবো ক্লায়েন্ট সার্ভার ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে। 

  • ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক এ ডাটা সংরক্ষণ এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য একটি শক্তিশালী কম্পিউটার সার্ভার থাকে এবং অন্য সকল কম্পিউটার বা ক্লায়েন্ট এই সার্ভার এর সাথে যুক্ত থাকে।
  • এই নেটওয়ার্কে একটি কম্পিউটারে রেসোর্সস থাকে। আর অন্যান্য কম্পিউটার সেইসব রিসোর্স ব্যবহার করে থাকে।
  • এখানে যে কম্পিউটারে রিসোর্স থাকে সেটাকে সার্ভার বলে এবং যেসব কম্পিউটার এই রিসোর্স গুলো ব্যবহার করে থাকে তাকে বলা হয় ক্লায়েন্ট।
  • ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কে সার্ভার বেজড নেটওয়ার্ক ও বলা হয়ে থাকে।

সংক্ষেপে বলা যায়, এ ধরনের নেটওয়ার্কে একটি কম্পিউটারে রিসোর্স থাকে এবং নেটওয়ার্কের অন্য কম্পিউটার সেসব রিসোর্স ব্যবহার করে। যে কম্পিউটারে রিসোর্স থাকে সেটাকে সার্ভার বলে, আর যে কম্পিউটার এ ওই রিসোর্স ব্যবহার করে তাদেরকে বলা হয় ক্লায়েন্ট।

ক্লায়েন্ট সার্ভার মডেল 

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক - ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কত প্রকার এ আর্টিকেলটিতে আমরা এইবারে জানব ক্লায়েন্ট সার্ভার মডেল  বলতে কী বোঝায়। ক্লায়েন্ট সার্ভার মডেল পরিষেবা অনুরোধকারী ক্লায়েন্ট ও পরিষেবা ব্যবহারকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্ক প্রক্রিয়া গুলির একটি যোগাযোগ কাঠামো। ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক সংযোগ কোন ইন্টারনেট বা কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত।

ক্লায়েন্ট সার্ভার মডেল একটি নেটওয়ার্ক কমপিউটিং ধারণা যেটা ওয়েব বা ডাটাবেজ অ্যাক্সেস এবং ইমেইল এক্সচেঞ্জ এর জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ক্লায়েন্ট সার্ভার মডেলের চারপাশে নির্মিত প্রটোকল এবং ওয়েব প্রযুক্তিগুলো নিম্নরূপ

  • এইচটিটিপি (হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল)
  • এস এম টি পি (সাধারণ মেইল স্থানান্তর প্রটোকল)
  • ডি এন এস (ডোমেইন নেম সিস্টেম)
  • টেলনেট

ক্লায়েন্টদের মধ্যে রয়েছে চ্যাট এপ্লিকেশন, ইমেইল সফটওয়্যার ,  ওয়েব ব্রাউজার এবং সার্ভার এর মধ্যে রয়েছে চ্যাট, মেইল, ডাটাবেজ, অ্যাপ্লিকেশন , ওয়েব ইত্যাদি।

পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক কি 

আলাদা ভাবে সার্ভার কম্পিউটার ছাড়া যখন দুই বা তার অধিক কম্পিউটার কে সরাসরি পরস্পরের সাথে যুক্ত করে একটি নেটওয়ার্ক গঠন করা হয় তখন তাকে পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক বলে। যেমন আমরা ব্লুটুথের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য আদান প্রদান করে থাকি। এই তথ্য আদান প্রদানের সময় যে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয় এটাই হচ্ছে পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক। এটাকে সংক্ষেপে P2P নেটওয়ার্কও বলা হয়।

পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক এর সুবিধা ও অসুবিধা 

পেয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক এর কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। যেমন সুবিধাগুলো হচ্ছে

  • পেয়ার টু পেয়ার নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং কনফিগারেশন সহজ।
  • এই নেটওয়ার্কে কোন অপারেটিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক এর প্রয়োজন হয় না
  • খুব বেশি দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয় না। ব্যবহারকারী নিজেই এ কাজটি করতে পারে।
  • নেটওয়ার্ক সেটআপ করা খুব সহজ।

পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক এর অসুবিধা

  • এ নেটওয়ার্কের আওতায় যুক্ত প্রত্যেকটি কম্পিউটার অ্যাক্সেস করতে পারে যার ফলে এর কাজের গতি অনেক ধীর পদ্ধতিতে হয়।
  • পেয়ার টু পেয়ার নেটওয়ার্ক হ্যাক করা তুলনামূলকভাবে সহজ।
  • যেহেতু এখানে কোন সার্ভার থাকে না সেহেতু বিভিন্ন কম্পিউটারে সংরক্ষিত ফাইল বা তথ্য ব্যাকআপ নেওয়া সম্ভব হয় না।

ক্লায়েন্ট কাকে বলে 

ক্লায়েন্ট ইংরেজি শব্দ। ক্লায়েন্ট শব্দটি ক্লায়েন্ট সার্ভার মডেলের প্রোগ্রাম বা যন্ত্রগুলো যে চরিত্রে কাজ করে থাকে তা বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। ক্লায়েন্ট হচ্ছে একখন্ড কম্পিউটার সফটওয়্যার ব্যবহারের একটি সেবায় প্রবেশ করে এবং সার্ভার দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। সার্ভারটি প্রায় সময় অন্য একটি কম্পিউটার ব্যবস্থায় থাকে যে ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট সেবায় নেটওয়ার্কের কোন একটি উপায় প্রবেশ করে থাকে। এক কথায় বলতে গেলে যেসব কম্পিউটার সার্ভার থেকে কোনো তথ্য বা উপাত্ত নেয় তাকে ক্লায়েন্ট বলে।

প্রিয় পাঠক ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক ও ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কত প্রকার এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের ভাল লেগেছে। ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক এই আর্টিকেলটিতে সহজভাবে ক্লাইন্ট সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করেছি। ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক আর্টিকেল টি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবেন। এই ধরনের আরও আর্টিকেল তে তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। তাহলে আজ এ পর্যন্তই। আল্লাহ হাফেজ।২৩২৬১

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url