দ্রুত ওজন কমানোর সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি

আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাদের জন্য কিভাবে দ্রুত ওজন কমাবেন তার সহজ ও কার্যকরী টিপস নিয়ে আলোচনা করবো। আপনি যদি খুব দ্রুত ওজন কমাতে চান তাহলে আমাদের এই পোস্টটি খুব মনোযোগ সহাকারে পড়ুন। অতিরিক্ত ওজন আমাদের কারও কাম্য নয়। অনেকেই আছেন, যাঁরা ওজন কমানোর জন্য অনেক টাকা খরচ করেও নিজেদের ফিট রাখতে পারছেন না। অনেকেরই আবার নির্দিষ্ট কোনো চাকরির জন্য ওজন কমানো দরকার পড়ে। কিছু চাকরিতে পদোন্নতির জন্যও কর্মীর ওজন জরুরি বিষয় হিসেবে দেখা হয়। অনেক সময় বিশেষ অস্ত্রোপচারের আগে জরুরি ভিত্তিতে রোগীর ওজন কমানোর দরকার পড়ে।

krishnocomputers.com

নিজেকে পুরোপুরি সুস্থ রেখে সাধারণত মাসে তিন-চার কেজি ওজন কমানো যায়। তবে কারও যদি জরুরি কারণে এক মাসে আট কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজন কমানোর দরকার পড়ে, তবে অবশ্যই পরিকল্পনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওজন কমাতে হবে।

আরো পড়ুনঃ রূপচর্চায় মধুর উপকারিতা

এক মাসে আট কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজন কমানোর জন্য কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। এই পদক্ষেপের মধ্যে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণই নয়, পুরো জীবনযাপনকেই একটা অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কম সময়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মিলবে।

দ্রুত ওজন কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে ব্যায়াম

পোস্ট সূচিপত্রঃ দ্রুত ওজন কমানোর সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি

১ মাসে ৮ কেজি বা তার বেশি ওজন কমানোর কার্যকর কিছু উপায়


খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন

মাসে আট কেজি ওজন কমাতে হলে প্রথমেই আপনাকে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। আপনার খাদ্যাভ্যাস যেন নিয়ম মেনে প্রতিদিন একই সময়ে হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। সকালবেলা ভারী নাশতা, দুপুরে ভাত আর রাতে রুটি বা হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। মাঝখানের সময়ে ফলমূল খেতে পারেন। এই খাদ্যাভ্যাস আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করবে। 

ওজন কমাতে সুষম খাবার গ্রহন 

ওজন কমানোর সবচেয়ে অন্যতম প্রধান উপায় হচ্ছে আপনাকে অবশ্যই সুষম খাবার খেতে হবে। বেশি পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি ইত্যাদি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

চর্বি বা চর্বিজাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দিন। বাইরের তেলে ভাজা খাবার খাদ্যতালিকা থেকে একেবারেই বাদ দিতে হবে। ফাস্ট ফুড যথাসম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। দুইবেলার মধ্যবর্তী সময়ে খিদে পেলে পপকর্ন, ফল বা ফলের জুস খেতে পারেন।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা পরিহার করুন

জেনে অবাক হতে পারেন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফলে মানুষ বেশি খায়। ফলে মোটা হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তাই নিজেকে ফিট রাখতে বা ওজন কমাতে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন। 

ওজন কমাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম 

ওজন কমাতে দিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন

দিনে কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। তবে এর বেশি ঘুমালে আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দিনের বেলা ঘুমানোর অভ্যাস পরিহার করুন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ঘুম আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই নিয়ম মেনে রাতে জলদি ঘুমাতে যান ও ভোরবেলা উঠে পড়ুন।

ওজন কমাতে ব্যায়াম

দ্রুত ওজন কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি উপায় হচ্ছে ব্যায়াম। ব্যায়াম আমাদের শরীরকে যেমন ফিট রাখে, ঠিক তেমনি আমাদের ওজন কমাতেও সাহায্য করে। তাই এক মাসে আট কেজি বা তার বেশি কেজি ওজন কমাতে চাইলে আপনাকে প্রতিদিন কম করে হলেও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ব্যায়াম করতে হবে। এ সময়টুকুর মধ্যে আপনি হাঁটতে পারেন, দৌড়াতে পারেন বা নিজের নিত্য নিতুন কাজ গুলোর মাধ্যমেও শরীরকে ফিট রাখতে পারেন। ওজন কমানোর জন্য সাঁতার কাটা ও সাইকেল চালানো আদর্শ ব্যায়াম। ব্যায়াম করার জন্য আপনাকে ঘরের বাইরে জিমনেসিয়ামে বা পার্কেই যেতে হবে, এমন কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি ঘরের দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই নিজের ব্যায়াম সেরে নিতে পারবেন।

ওজন কমাতে রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়ার চেষ্টা করুন 

ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন। চেষ্টা করুন আটটার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিতে। কারণ, রাতে খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি শুয়ে পড়েন, তাহলে আপনার ওজন দ্রুত বেড়ে যাবে। রাতে ঘুমানোর আগে খিদে লাগলে ফলের জুস অথবা দুধ খেতে পারেন।

খাওয়ার আগে পানি পান

খাবার গ্রহণের ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে পানি পান করুন। আপনার হজমে সাহায্য হবে। যথাসম্ভব বাড়িতে তৈরি খাবার খান। জাঙ্কফুড পুরোপুরি পরিহার করুন।

ওজন কমাতে অতিরিক্ত খাবার পরিহার করুন 

আপনার জন্য যেটুকু খাবার প্রয়োজন, ঠিক ওই পরিমাণে খাবার খান। নিজের শরীরের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত খাবার খেলে আপনার ওজন বাড়বেই। তাই এক মাসে সাত কেজি বা তার বেশি ওজন কমাতে চাইলে অতিরিক্ত খাবার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন।

পানি

ওজন কমাতে প্রচুর পানি পান করার চেষ্টা করুন 

পরিমাণমতো এক ঘণ্টা অন্তর অন্তর পানি পান করুন। পানি আপনার শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বের করে আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া পানি আমাদের ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পানি রাখুন এবং নিয়ম মেনে তা পান করুন।

চিনি পরিহার পরিহার করুন ওজন কমানোর জন্য 

কাঙ্ক্ষিত ওজন কমানোর জন্য খাদ্যতালিকা থেকে চিনি পুরোপুরি পরিহার করা আবশ্যক। কারণ, মাত্র ১ চা-চামচ চিনিতে ১৬ শতাংশ ক্যালরি থাকে, যা আপনার ওজন কমানোর সম্পূর্ণ অন্তরায়। তাই চা ও দুধে চিনি পরিহার করুন।

গ্রিন টি

গ্রিন টিতে রয়েছে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান, যা আমাদের ওজন কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন চার কাপ করে গ্রিন টি ১ সপ্তাহ খেলে শরীর থেকে ৪০০ গ্রাম ক্যালরি ক্ষয় করা সম্ভব। এটাই আমাদের দেহের ওজন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গ্রিন টি অবশ্যই রাখুন।

ওজন কমাতে রঙিন সালাদ

খাদ্যতালিকায় রাখুন বিভিন্ন রঙের সবজি বা ফল দিয়ে তৈরি সালাদ। এ সালাদের সঙ্গে টক দই মেশাতে পারেন। এতে উপকার পাবেন।

অনেক মোটা হয়েছেন, খুব দ্রুত ওজন কিভাবে কমাবেন? 

“অনেক মোটা হয়েছি, খুব দ্রুত ওজন কীভাবে কমাবো?” প্রশ্নটা যারা করেন তাদের আমরা উলটো প্রশ্ন করতে চাই-


‘অনেক মোটা’ হতে আপনার কতদিন লেগেছে? কতদিন আগে শুকনো ছিলেন?

উত্তর-

*গত ৬-৭ মাসে মোটা হয়েছি।
*খেয়ালই করি নি কবে মোটা হলাম!
*সবাই বলে মোটা হয়েছি।
*ওজন মাপি না, একদিন মেপে দেখি হঠাৎ করেই মোটা হয়েছি।

মূলত উপরের উত্তরগুলো আসে যারা নিজের হেলথ, ওয়েলনেস নিয়ে একেবারেই সচেতন না তাদের কাছ থেকে। সারাজীবন ধরে ২ ভাবে এরা নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে-


১. নিজের ওজনের দিকে খেয়াল না রেখে হঠাৎ বিশাল পরিমাণে ওজন গেইন করে।
২. বিশাল ওজন বিভিন্ন ক্রাশ ডায়েট, হাবিজাবি ‘হারবাল চা’, ‘সাপ্লিমেন্টস’ খেয়ে কমানোর চেষ্টা করে
আবার নিজের স্বাস্থ্য আরেকদফা নষ্ট করে। তাই হঠাৎ মোটা হয়ে খুব দ্রুত ওজন কমানো যায়
কিভাবে? প্রথমত, নিজের বাক্য থেকে ‘হঠাৎ’ শব্দটা সরান। ‘হঠাৎ’ কেউ মোটা হয় না। ডেইলি ১ টা ১২ ইঞ্চি পিজ্জা খেয়ে সারাদিন ঘুমালেও একজন স্বাভাবিক মানুষের ওজন ১০-১৫ কেজি বাড়তে ৫-৬ মাস লাগবে… তাই একটুও নড়াচড়া না করে এই ওজন আপনি ১ সপ্তাহে কমাবেন কিভাবে? এতো সহজ?

নিজের কাছে বিশ্বাসযোগ্য লাগে নিজের প্রশ্ন?
অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল-এর একজন মানুষ যে এক্সারসাইজ করে না এবং যার মেটাবলিজম স্বাভাবিক বা একটু স্লো, তার স্বাস্থ্যকরভাবে বাড়তি ১০-১৫ কেজি ওজন কমাতে ১ বছরের মতো সময় লাগতে পারে।
‘স্বাস্থ্যকর’ ‘সাসটেইনেবল’ ভাবে ওজন কমাতে কি বোঝাচ্ছি?

১. যেখানে ওজন কমার সাইড ইফেক্ট হিসেবে আপনি ম্যালনিউট্রিশন-এ ভুগবেন না, স্কিন, চুলের ক্ষতি হবে না।

২. সবচেয়ে বড় কথা ওজন আজ ৫ কেজি কমে কালকেই আবার ৭ কেজি বাড়বে না। ১০ কেজি কমার পর আপনি ঐ ওয়েট-টাই ধরে রাখতে পারবেন।


তাই ‘খুব দ্রুত’ নিজের একটা বিশাল ক্ষতি না করে ন্যাচারালি আপনি ওজন কমাতে পারবেন না। সেই চেষ্টা করাটাও ঠিক হবে না। এর চেয়ে হাতে সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে স্বাস্থ্যকর রুটিন ডায়েট, পরিমিত এক্সারসাইজ ডেইলি করলে স্বাস্থ্য আর সময় দুটোই বাঁচবে। সেটাই করুন।

অসুস্থতা বা অপারেশনের পর মোটা হয়েছি, কিভাবে কমবো?

সি-সেকশন, PCOS, থাইরয়েড-সহ অন্যান্য হরমোনাল প্রবলেম, হেরিডেটারি এক্সট্রিম স্লো মেটাবলিসম-এর কারণে অনেকের হুহু করে ওজন বাড়তে থাকে। অনেক সময় এসব প্রবলেম ধরা পড়ার আগেই ওজন একটা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে চলে যায়! তখনও দেখা যায় ডাক্তারের হেল্প না নিয়ে না খেয়ে না খেয়ে, নেট থেকে চার্ট নামিয়ে অনেকে নিজে নিজে ডায়েট করে ওজন কমানোর ট্রাই করেন। কিন্তু খাওয়া যতই কমুক, ওজন আর কমে না! এর চেয়ে কষ্টের আর কি আছে?

এক্ষেত্রেও হুট করে ওজন কমানো একেবারেই ইম্পসিবল। প্রথমে আপনাকে ডাক্তারের সাহায্য নিতে হবে। ওজন বেড়েই যাচ্ছে, কনট্রোল করতে চাইলেও পাড়ছেন না? এক্ষুনি চেক আপ করান। আপনার প্রবলেম আছে কিনা সেটা না বুঝলে সলিউশন কিভাবে পাবেন? হরমোনাল প্রবলেম ধরা পড়লে অবশ্যই সেই প্রবলেম আগে ট্রিট করতে হবে। অসুস্থতা জনিত অতিরিক্ত ওজনের জন্য লং-টার্ম কাসটোমাইজড ডায়েট চার্ট দরকার হবে। সেটা দেবে ডাক্তার/ নিউট্রিশনিস্ট। সাথে দরকার হবে ডেইলি ৩০-৪০ মিনিট এক্সারসাইজ।

এছাড়া আর কোনভাবেই আপনার ওজন কমাতে বা কনট্রোলে রাখা সম্ভব হবে না। তাই সময় নষ্ট না করে ‘শিওর’ আর ‘সেফ’ রাস্তা বেঁছে নেয়াটাই ভালো না?

এক সপ্তাহ পর প্রোগ্রাম, ৫ কেজি কমাবো কীভাবে?

এগেইন, সামনে প্রোগ্র্যাম এই লজিক আপনার শরীর বুঝবে না। ৫ কেজি ওজন বাড়াতে যত টাইম লেগেছে আপনার, কমাতে মিনিমাম তার ৩-৪ গুণ বেশি সময় লাগবে। তারপরেও ১ সপ্তাহে ৫ কেজি কমাতে চান? নেক্সট ৭ দিন যদি শুধু পানিও খান আপনি আপনার ওজন ৩-৪ কেজি কমতে পারে… এর ভেতরে আপনার সিরিয়াস লো ব্লাড প্রেশার, ম্যালনিউট্রিশন হবে। চুল পড়ে যাবে অর্ধেকের মতো।

আর এক সপ্তাহ পর? যখন আবার “প্রোগ্রাম” শেষে রেগুলার ডাল ভাতের ডায়েটে যাবেন? ১ মাসে আরও ৪-৫ কেজি ওজন বাড়বে! আগের চেয়েও একটু বেশি মোটা হয়ে যাবেন…নেক্সট ‘প্রোগ্রামের’ আগে এই সেম সাইকেল রিপিট করবেন। এভাবেই আপনার জীবন চলবে।

তাই না, এক সপ্তাহে এতো ওজন কমানো যায় না। বড়জোর হাফ কেজি থেকে ১ কেজি সেফলি এক্সারসাইজ ডায়েট দিয়ে কমাতে পাড়েন।

তাহলে দ্রুত ওজন কিভাবে কমাবেন? জিরা পানি, আদা পানি, গ্রিন টি, দারুচিনি খাব? তখন কমবে?

আবারো না, ‘কিছু খেয়ে ওজন কমানো সম্ভব না’ এই পয়েন্ট-টা খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। এই সব হেনতেন কিছু ক্ষেত্রে ‘মেটাবলিজম’ বাড়াতে হেল্প করবে। কিন্তু জাস্ট ‘ক্রাশ ডায়েট’ আর সকাল-বিকাল এই পানি সেই পানি খেয়ে ওজন কমানোর ট্রাই করে লাভের ভেতরে লাভ যা হতে পারে তা হচ্ছে- বিশাল গ্যাসট্রিক, অ্যাসিডিটি প্রবলেম, ডায়ারিয়া, লো ব্লাড প্রেশার, অ্যানিমিয়া… আর কিছুই না।

সেইফ ডায়েট, এক্সারসাইজ-এর সাথে গ্রিন টি খাওয়া খুবই ভালো (এ নিয়ে আগে বলেছি, চাইলে পড়তে পাড়েন) । বাট জিরা, আদা, দারুচিনি ওজন কমায় এটা কেউ নিশ্চিতভাবে আজ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারে নি।

আসলে আমার ওজন কমতে কতদিন লাগবে?

একেক মানুষের ওজন একেক হারে বাড়ে আর কমে। এটা পুরোপুরি মেটাবলিজম-এর হারের উপর নির্ভর করে। কেউ অনেক খেয়েও মোটা হয় না, আবার কেউ এক প্লেট ভাত খেয়েও মোটা হয়ে যায়। তাই নিজের ধাত বোঝার ট্রাই করুন।

এতে ‘রিয়েলিস্টিক’ ওয়েট লস এক্সপেকটেশন তৈরি করতে পারবেন।

‘অমুকে ২ মাসে শুকাইল, আমি এতো ডায়েট করলাম আমি শুকাইলাম না !’- এটা ভেবে দুঃখ আর পেতে হবে না।

আবার বলছি- ওজন কতদিনে বাড়ল সেটা ভাবুন, সেটা ৪ দিয়ে গুণ দিন। মোটামুটি ঐ সময়ের ভেতরে এক্সারসাইজ, একটু হেলদি ফুড হ্যাবিট প্র্যাকটিস করে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।

কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মেলে না। সাকসেস-এর কোন শর্টকাট নেই। ওকে ।  

স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন কমানোর উপায়

ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এবং খাদ্যাভ্যাসে ওজন ঠিক থাকে। যারা জাঙ্কফুডে অভ্যস্ত তাদের ওজন বেশি হয়ে থাকে। 

ক্যালরি হচ্ছে ওজন পরিমাপের উপায়। যদি ওজন কমাতে হয় তবে প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ হয় তার থেকে কম পরিমাণ ক্যালরি সমপরিমাণ খাবার খেতে হবে অর্থাৎ কম ক্যালরি খেতে হবে বা কম ক্যালরিযুক্ত খাবার পরিমাণমতো খাওয়া যাবে।

সে ক্ষেত্রে কোন কোন খাবারে ক্যালরি কম থাকে তা জানতে হবে ও সে অনুযায়ী কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে হবে। না খেয়ে বা খুব কম খেয়ে ওজন কমাতে গেলে দেখা যায় কিছু দিন বা কয়েকদিন পরই প্রচণ্ড ক্ষুধার কারণে এই পদ্ধতি বাদ দেয় ও আগের অবস্থায় ফিরে আসে, তাই ওজন কমাতে কিছু টেকসই ও কার্যকর পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে যা নিম্নরূপ-

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মেডিনোভা মেডিকেলের অধ্যাপক মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তৌফিকুর রহমান ফারুক। 

প্রোটিন জাতীয় খাবারে ক্যালরি কম

খাবারে প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খেয়ে ওজন কমানোর পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ, কার্যকরী, মুখরোচক, বৈজ্ঞানিক ও কম কষ্টের। প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে অল্প খাবারে তাড়াতাড়ি তৃপ্তি আসে অর্থাৎ ক্ষুধার অনুভূতি তাড়াতাড়ি কমে এবং আমাদের শরীরের মেটাবলিক রেট বা শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ার হার বাড়ে, কারণ প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার হজম করতে ও মেটাবলিজম হতে বা খাবার ভেঙে শক্তি উৎপাদনে বা অন্যান্য কাজে অনেক বেশি শক্তি ব্যয় হয়।

প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার হজম বা মেটাবলিজমে বেশি শক্তি অর্থাৎ ৮০-১২০ ক্যালরি শক্তি বেশি ব্যয় হয়। একজন ব্যক্তি যদি খাবারের ৩০ ভাগ প্রোটিন জাতীয় খাবার খায় তবে সে প্রতিদিন ৪৪১ ক্যালরি সমপরিমাণ খাবার কম গ্রহণ করল।

আরো পড়ুনঃ লিভার  ক্যান্সারের ঔষুধ  

তাই খাবারে পরিমিত পরিমাণ প্রোটিন যোগ করে একদিকে যেমন শরীরে ক্যালরি কম প্রবেশ করে তেমনি ক্যালরি খরচও বেশি হয়। প্রোটিন জাতীয় খাবার আমাদের ক্ষুধার তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

যারা ডায়েট করেন ও না খেয়ে ওজন কমাতে চান তাদের মাঝেমাঝে তীব্র ক্ষুধার অনুভূতি হয়, ফলে তারা আর না খেয়ে থাকতে পারেন না, ফলে ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে ও আবার ওজন আগের মতোই বাড়তে থাকে। প্রোটিন জাতীয় খাবার এ ধরনের হঠাৎ ক্ষুধার তীব্র অনুভূতি কমিয়ে দেয়।

এক গবেষণায় দেখা যায়, খাবারে যদি ২৫ ভাগ প্রোটিন বা আমিষ থাকে তবে এই প্রোটিন বা আমিষ মস্তিষ্কে খাবারের চিন্তা ৬০ ভাগ কমিয়ে দেয় ও রাতের গভীরে বা ভোর রাতে ø্যাক্স বা নাস্তা খাবার ইচ্ছা বা প্রবণতা ৫০ ভাগ কমিয়ে দেয়।

তাই যদি কেউ ওজন কমোনোর কর্মসূচি কার্যকরী ও টেকসই বা স্থায়ী করতে হয় ও কম কষ্টে ওজন কমাতে চায় তবে খাবারে কমপক্ষে ৩০ ভাগ প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার রাখতে হবে, এটা ওজন কমানোর পাশাপাশি ওজন যাতে আবার না বাড়ে তা নিশ্চিত করবে।

সুগারযুক্ত কোমল পানীয় ও ফলের রস বর্জন করতে হবে

সোডা, ফলের রস, চকোলেট দুধ ও অন্যান্য কোমল পানীয় যেমন কোকাকোলা, ফান্টা, মিরিন্ডা, পেপসি যেখানে অতিরিক্ত চিনি বা সুগার যোগ করা হয় তা ক্ষতিকর ও বর্জনীয়, কারণ সুগার বা চিনির মাধ্যমে আমাদের শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি ঢোকে ও তা আমাদের ওজন বাড়ায়।

বাচ্চাদের ওজন বাড়াতে বা মোটা হওয়ার রিস্ক ৬০ ভাগ বেড়ে যায় যদি প্রতিদিন সুগারযুক্ত কোমল পানীয় পান করে। ওজন বাড়ার পাশাপাশি এ সুগারযুক্ত কোমল পানীয় নানাবিধ রোগ তৈরি করে।

প্রাকৃতিক জুস বা ফলের রস স্বাস্থ্যকর কিন্তু জুসের সঙ্গে যদি অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হয় তবে তা ক্ষতিকর। এসব সুগারযুক্ত পানীয়ের আসলে কোনো লাভজনক দিক তো নেয়ই বরং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর।

বেশি করে পানি পান করলে ওজন কমে

ওজন কমানোর জন্য অন্যতম ট্রিক হচ্ছে প্রতিদিন বেশি পরিমাণ পানি পান করা। বেশি পরিমাণ পানি পান করলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ হয়। প্রতিদিন ৪ গ্লাস বা ২ লিটার পানি পান করলে ৯৬ ক্যালরি শক্তি অতিরিক্ত খরচ হয় কোনো কায়িক পরিশ্রম ছাড়াই।

তাছাড়া খাবার আগে খালি পেটে পানি পান করলে তাতে পেট আংশিক ভর্তি হবে এবং ক্ষুধা কমবে ও কম পরিমাণ খাবারে পেট ভরে যাবে, তাতে অটোমেটিক্যালি কম ক্যালরি শরীরে ঢুকবে।

১২ সপ্তাহব্যাপী এক গবেষণায় দেখা গেছে খাবার ১-২ ঘণ্টা আগে ১-২ লিটার পানি খেলে ৪৪ ভাগ বেশি ওজন কমে, তাই ওজন কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর ও কম ক্যালরিযুক্ত খাবারের পাশাপশি বেশি পরিমাণে পানি পান করা কার্যকরী। যেসব পানীয় ক্যাফেইনযুক্ত যেমন গ্রিন টি, কফি স্বাস্থ্যক ও ওজন কমাতে সহায়ক কারণ এ পানীয়গুলো শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ করতে সাহায্যকারী।

নিয়মিত ব্যায়াম করা

আমরা যখন কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খাই, তখন আমাদের শরীর শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে চায়, শক্তি কম খরচ করে শক্তি জমা রাখতে চায়। তাই দীর্ঘমেয়াদি ওজন কমান কর্মসূচি বা ডায়েটিং করলে বা কম খেলে আমাদের শরীরে মেটাবলিকজনিত বা শারীরবৃত্তীয়জনিত ক্যালরি খরচ কমে যায়।

তাছাড়া এতে আমাদের শরীরের মাংসপেশীগুলো শুকিয়ে যায়, তাই ওজন কমানোর জন্য বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার কম খাওয়ার পাশাপাশি মাংসপেশী ঠিকভাবে রাখার জন্য ভারোত্তোলন বা ওজন লিফটিংও করতে হবে, এতে মাংসপেশী শুকিয়ে যাওয়া প্রতিরোধ হবে ও মেটাবলিক কার্যক্রম ঠিক থাকবে।

তাই ওজন কমানোর জন্য আমরা শুধু শরীরের চর্বিই কমাতে চাইব না, আমাদের শারীরিক গঠনও যাতে ঠিক থাকে, আমাদের যাতে দেখতে অসুন্দর না লাগে, শুকনা শুকনা না লাগে, বরং দেখতে ভালো যাতে লাগে। ওয়েট লিফটিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত এরোবিক ব্যায়াম যেমন হাঁটা, সাঁতার কাটা ও জগিং করতে হবে।

রিফাইন্ড সুগার ও কার্বোহাইড্রেট কম খেতে হবে

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবারে প্রচুর ক্যালরি থাকে, তাই খাবারে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি, আলু, চিনি, মিষ্টি, মধু, কোমল পানীয় কম খেতে হবে।

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে কম ক্যালরিযুক্ত খাবার অর্থাৎ কম কার্বোহাইড্রেট ও কম চর্বিযুক্ত খাবার ওজন কমাতে ২-৩ গুণ অধিক কার্যকর। তাছাড়া কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার অন্যান্য রোগ যেমন ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিন্ড্রোম রোগ প্রতিরোধ করে, তবে ফাইবারযুক্ত কমপ্লেক্সে বা জটিল কার্বোহাইড্রেট যেমন ঢেঁকিছাঁটা লাল চাল শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং উপকারী।

শেষ কথাঃ ওজন কমানোর উপায়

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাহিরের বিভিন্ন দোকানে বিভিন্ন মুখরোচক খাবার  খেয়ে থাকি। যেগুলো মুখরোচক হলেও এগুলো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাই ওজন কমানোর জন্য উপরে বর্ণিত যে নিয়মগুলি আলোচনা করা হয়েছে, আশা করি, এগুলো সঠিক নিয়ম অনুসারে পালন করলে আপনি সহজেই ওজন কমাতে পারবেন।   

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

কৃষ্ণ কম্পিউটারস’র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url